শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ |  saintmartinbdnews@gmail.com

প্রচ্ছদ » খোলা কলাম » শিক্ষা - সংস্কৃতির একাল সেকাল

শিক্ষা - সংস্কৃতির একাল সেকাল

আপডেট : ০৪ জুলাই, ২০১৯ , সময়ঃ ১১:৪৩ অপরাহ্ন

মোঃ তরিকুল ইসলাম

তরিকুল ইসলাম, ইবিঃ
  বাংলাদেশের অন্যতম সফল মন্ত্রী, জাতীয় নেতা , স্বাধীন বাংলার মহান স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৬৯ এ বঙ্গবন্ধু উপাধি প্রদানকারী  মহান নেতা, ডাকসুর সাবেক ভিপি জনাব তোফায়েল আহাম্মেদ  সাহেব গত ২৩এপ্রিল ডাকসুর সভায় বলেছিলেন, "শিক্ষকরা রাজনীতি না করলে সম্মান বেশী  পেতেন৷" মন্ত্রী সাহেবের এ মতামতের পক্ষে আমি পূর্ণ করি৷ কারণ , জাতীয় কোন নেতার মতামত যদি জাতির জন্য কল্যাণকর হয়, তবে সেটাই আইন বলে আমি মনে করি৷
আমরা অনেক বছর ধরে লক্ষ্য করছি যে -  জাতির বিবেক, জাতির মেরুদন্ড , জাতির কারিগর শিক্ষক সমাজের একাংশ রাজনীতির মধ্যে মিশে আছে , যার ফলে  অধিকাংশই ক্ষেত্রেই নোংরা রাজনীতিকেও সমর্থন করতে হচ্ছে৷ ফলে স্কুল, কলেজ,মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলছে অরাজকতা, দূর্নীতি,অনিয়ম, অপকর্ম৷ আর রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে আজ পদ পাচ্ছে চাটুকাররা৷ ফলে তারা ভয় পায় ম্যানেজিং কমিটি কিংবা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলকে৷ শিক্ষাদানে মনোযোগী হওয়ার চাইতে তারা আজ রাজনৈতিক ব্যক্তি বিশেষ করে দাপুটে সন্ত্রাসী ব্যক্তিদের মন যোগাতে ব্যস্ত৷ এরই অপব্যবহার করে কুৎসিত চরিত্রের লোকেরা অনৈতিক কর্মে লিপ্ত হচ্ছে, করছে সন্ত্রাস, ধর্ষণ আর হত্যার মত মারাত্মক পাপাচার৷ যার প্রমাণ লম্ফট অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি, বশেমুরবিপ্রবি এর সাবেক ভিসি ও সিএসই এর চেয়ারম্যান সহ সারা দেশে অজস্র পাপিষ্ট৷
 আগে মানুষ এদের নিকট ন্যায়- নীতি শিক্ষা নিত, মানুষ হয়ে গড়ে উঠত আর গূণীজনের সম্মান করত৷ আজ কতিপয় কলঙ্কিত শিক্ষক সমাজের জন্য শিখছে নোংরা রাজনীতি, মাদকাসক্ততা, নানাবিধ পাপাচার আর গূণীজনের অসম্মান, মনূষ্যত্বহীন আচরণ৷ আগে শিক্ষার্থীরা   সুস্থ সংস্কৃতির  চর্চা করত,সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে শিক্ষণীয় জিনিস শেখানো হত৷ কিন্তু আজ শুধু যুবসমাজই নয় বরং বরস্ক মানুষকেও  অপসংস্কৃতিতে মত্ত হয়ে থাকতে দেখা যায়৷ সামাজিক অনুষ্ঠানগূলি অশ্লীলতায় ভরে গেছে৷ ফলশ্রুতিতে জাতি আজ ধবংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে ৷ হচ্ছে না গুণগত সাহিত্য চর্চা, পাচ্ছি না কাজী নজরূলের  মত প্রতিভাবান কবি, দেখা যায় না সুস্থ ধারার মৌলিক সংগীত চর্চা৷
 স্কুলগুলির অবস্থাও বড়ই করুন৷ শিক্ষকগণ নিজেদের সত্য -সঠিক মত প্রকাশ করতে পারেন না অনেক ক্ষেত্রে ৷ কেননা, তারা আজ জিম্মি  স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিকদের হাতে নয়তো অসাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির বেড়াজালে৷ গত ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ইং  মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল  এই বিষয়ে বলেন, 'রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণে ব্যবস্থাপনা কমিটির অশিক্ষিতরা শিক্ষকদের উপর বেশী কর্তৃত্ব ফলান৷ শিক্ষকদের সম্মান দেওয়ার মত শিক্ষিত লোক ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নিযুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যিলয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে  ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে৷'
 বাংলাদেশে শিক্ষা ও গবেষণার মানের কারণে ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে৷ পাশের হার বাড়লেও শিক্ষার নিম্ন মানের কারণে শিক্ষিতের হার বাড়ছে না বলে আমি মনে করি৷ কেননা পুথিগত বিদ্যা মানুষকে জ্ঞানে ও গবেষণায় উন্নত করতে পারে না৷ গত ৭মে,২০১৯ইং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন তাঁর ফেইসবুক স্ট্যাটাচে লেখেন, 'এশিয়ার সেরা বিশ্ব বিদ্যালয়ের তালিকায় কেনো বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় নাই - এর অনেকগুলি কারণ রয়েছে৷ বিশ্ববিদ্যালয় গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মত চলছে না ৷ একটি বিশ্ববিদ্যিলয়ে বিশ্বায়নের ব্যাপার থাকে, যেখানে বিদেশী ছাত্র থাকাবে, মাল্টি কালচারাল ব্যবস্থা থাকবে, বিদেশী শিক্ষক থাকবে ৷ আমাদের দেশের শিক্ষকদের গবেষণা নেই বললেই চলে ৷ আমাদের অধ্যাপকদের যোগ্যতা  নিয়ে বিদেশে একজন ব্যক্তি সহকারী অধ্যাপক হতে পারেন না৷ ' তিনি আরও লেখেন, ' আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আসলে বিশ্ববিদ্যালয় না ৷ এখানে কিছু ভবন আছে , কিছু শিক্ষক আছে ৷ শিক্ষকরা সারাদিন শুধু রাজনীতি নিয়ে পড়ে থাকে ৷ গবেষণা, পড়ালেখার মধ্যে কি কেউ আছেন ?' গত ১২মে, ২০১৯ইং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভিসি প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী  বলেন, 'আমরা সবাই পদের পিছনে দৌঁড়াই, ভিসি ডিন হতে চাই ৷ তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান কেমনে ভাল হবে৷' এমনকি তিনি নিজেও একই কাজ করেছেন , বিশ্ববিদ্যিলয়ের  দুইটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেকে বহাল রেখেছেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে৷
দলমত, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে মনে রাখা দরকার: 'এক মাঘে শীত যায় না, আল্লাহর মাইর জগতের বাইর'  - বচনগুলি সকলের মনে রাখা উচিত৷ 
তাই শিক্ষক সমাজের প্রতি আহবান :
 ১. অপরাজনীতি থেকে মুক্ত থাকুন, আত্মসম্মান বজায় রাখুন৷
২. শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হউন, জ্ঞান চর্চায় উদ্বুদ্ধ করুন৷
৩. ন্যায় নীতি আর সত্যের উপর থাকুন, জাতিগঠনে স্বধর্মের বিধিবিধান মানাসহ দেশপ্রেমে উৎসাহিত করুন৷

@ মোঃ তরিকুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিশ্লেষক


সর্বশেষ সংবাদ

বিজ্ঞাপন