শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯ |  saintmartinbdnews@gmail.com

প্রচ্ছদ » সেন্ট মার্টিন সংবাদ » সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভয়াবহ ভাঙ্গন, টেকসই বেড়িবাঁধ অতীব জুরুরী

সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভয়াবহ ভাঙ্গন, টেকসই বেড়িবাঁধ অতীব জুরুরী

আপডেট : ০৯ জুলাই, ২০১৯ , সময়ঃ ০৯:৪৮ অপরাহ্ন

সেন্টমার্টিন দ্বীপের ভাঙ্গনের খন্ড চিত্র

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

প্রায় দুইশ বছর আগে থেকে বসতি শুরু হয় দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমাটিনে। এর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসসহ ভয়াবহ নানা প্রাকৃতিক দূর্যোগ টেকনাফ উপকূলে আঘাত হানলেও কখনো মনোবল ভাঙ্গেনি সেন্টমার্টিন-দ্বীপবাসীর।

কিন্তু সম্প্রতি এ দ্বীপে দু‘টি জলোচ্ছাসে আঘাত হানে এবং দ্বীপের চারপাশে ভয়াবহ ভাঙ্গনের সৃষ্টি হওয়ায় নতুন করে ভাবনায় পড়েছে দ্বীপের প্রায় নয় হাজার বাসিন্দা। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ৮.৩ বর্গ কিলোমিটারের দ্বীপটি দিন দিন ছোট হয়ে আসায় দেশের মানচিত্র থেকে দ্বীপটি হারিয়ে যাবে এমন আশংকায় উদ্বিগ্ন দ্বীপবাসীর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের অস্বাভাবিক চাপ, শামুক-ঝিনুক ও প্রবাল আহরন,পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত কর্মকান্ড এবং বহুমাত্রিক দূষণের জন্য মূলত দ্বীপটি হুমকীর মুখে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৯১সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়, ৯৪’র জলোচ্ছাসসহ কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় এ দ্বীপে পানি ওঠেনি। ভাঙ্গনের সমস্যাও তেমন একটা ছিলনা। কিন্তু দ্বীপে বসতি শুরুর দীর্ঘ দুইশ বছর পর, গেল বছর গুলোতে পূর্ণিমার জোয়ারে হঠাৎ সেন্টমার্টিনে জলোচ্ছাসের সৃষ্টি হয়। দ্বীপের চতুর্দিকে ভাঙন শুরু হয়।

ভাঙ্গনের কবলে পড়ে দ্বীপের চারপাশে বিশাল অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। ভাঙ্গন কবল থেকে রক্ষায় পায়নি দ্বীপের আটটি বসতঘরসহ প্রায় ২১টি স্থাপনা পানিতে ধ্বসে যায়। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে দ্বীপের উত্তর ও পশ্চিম অংশে অবস্থিত একমাত্র একমাত্র কবরস্থানটির ১৫০ ফুটেরও বেশী সমুদ্র গর্ভে তলিয়ে গেছে। ফলে শংকিত হয়ে পড়ে দ্বীপের বাসিন্দারা।

এ দ্বীপের পরিবেশ, পর্যটন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় টেকসই বেঁড়িবাঁধ নির্মাণের দাবীতে ১৫ জানুয়ারী (রোববার) দুপুরে টেকনাফ পৌরসভার একটি আবাসিক হোটেলের হলরুমে সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, এ দ্বীপে মানুষের বসবাস শুরু হয় প্রায় দুইশ বছর আগে। দ্বীপে বসতি শুরুর পর এভাবে কোনো দিন এখানে পানি ওঠেনি।এ রকম ভয়াবহ ভাঙ্গনও কোন সময় দেখা যায়নি। জোয়ারের পানি আর সমুদ্রের ঢেউয়ের কারণে দ্বীপে চার পাশেই ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে।

বেশী ভেঙ্গেছে উত্তর-পশ্চিম অংশে। এদিকে বির্স্তৃণ কেয়াবন সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। দ্বীপের একমাত্র কবরস্থানটির প্রায় দেড়শ ফুটেরও বেশী সাগরে তলিয়ে গেছে। মাটি সরে যাওয়ায় স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িসহ আশপাশের কয়েকটি সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে কবর থেকে বেরিয়ে আসা মানুষের কংকালও।

এছাড়া সরকারী-বেসরকারীভাবে স্থাপনা নির্মিত হলেও নির্মিত হয়নি টেকসই বেড়িবাঁধ। পর্যটন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় সরকারের গৃহিত উন্নয়ন পরিকল্পনা ধরে রাখতে মজবুত ও টেকসই বেড়িবাঁধ নিমার্ণের দাবী করেন।

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, সেচ্ছায় দ্বীপবাসী বাঁধ নিমার্ণ করতে চাইলেও স্থানীয় প্রশাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কোস্টগার্ড সদস্যরা বাঁধ নির্মাণে বাধা দেয়। এব্যাপারে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ কামনা করেছেন।

জানা গেছে,বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়।


সর্বশেষ সংবাদ

বিজ্ঞাপন