মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ |  saintmartinbdnews@gmail.com

প্রচ্ছদ » রাজনীতি » শোভ-রাব্বানীর পদত্যাগঃ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাহিয়ান, সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য

শোভ-রাব্বানীর পদত্যাগঃ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাহিয়ান, সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , সময়ঃ ০১:১৮ পূর্বাহ্ন

ছাত্রলীগ

অনলাইন ডেস্ক : ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী পদত্যাগ করেছেন। নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হয়েছেন আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন লেখক ভট্টাচার্য।

আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন শোভন ও রাব্বানী। আজ রাতেই গণভবনে ক্ষমতাসীন দলের কার্যনির্বাহী পরিষদের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বসে। সেখানে ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে নতুন মুখের বিষয়ে আলোচনা হয়।

পরে সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে আল নাহিয়ানকে এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে লেখক ভট্টাচার্যকে মনোনীত করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

তবে, সভাপতি ও সম্পাদক ছাড়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আর কোনো পদে পরিবর্তন নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি জানান, এই বৈঠকে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিলের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ২০ থেকে ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাউন্সিল করবে দলটি।

ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর ইউনিয়নে। তার বাবার নাম আব্দুল আলীম। বরিশালে এসএসসি পাস করার পর ঢাকা কমার্স কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে।

আল নাহিয়ান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সভাপতি হওয়ার আগে ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

অন্যদিকে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের বাড়ি যশোরে। তিনি জেলার মণিরামপুর উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের বাহিরঘরিয়া গ্রামের দেবাশীষ ভট্টাচার্যের ছেলে। এর আগে তিনি ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দুই শীর্ষ নেতা শোভন-রাব্বানী পদ হারাচ্ছেন, এমন গুঞ্জন চলছিল বেশ কদিন ধরে। তাদের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ঘুর-ফিরে ফলাও হয় নানা মাধ্যমে। গত ৮ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় শেখ হাসিনা এমনকি ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দিতে বলেন নেতাদের। দুদিন পর ১৯ সেপ্টেম্বর বাতিল হয় শোভন-রাব্বানীর গণভবনে প্রবেশের স্থায়ী পাস। এর মাধ্যমে তাদের ভাগ্য অনেকটা নির্ধারিত হয়ে যায়। ১৩ সেপ্টেম্বর নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার ও ক্ষমা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি লেখেন গোলাম রাব্বানী।

আওয়ামী লীগের আজকের কার্যনির্বাহী সভায় শোভন-রাব্বানীর ভঅগ্য নির্ধারিত হবে এটা অনেকটাই অনুমেয় ছিল। তার আগে পদত্যাগ করেন শোভন-রাব্বানী।

গত বছরের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়। ৩১ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতিতে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ ১ বছর না পেরোতেই তাদের বিরুদ্ধে উঠে আসে শত শত অভিযোগ। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতাসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে নানা ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কথা বিভিন্ন সময় উঠে আসে।

-ঢাকাটাইমস


সর্বশেষ সংবাদ

বিজ্ঞাপন